অবশেষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স। কিন্তু কি এমন ঘটেছে, যে আমেরিকার প্রত্যক্ষ সমর্থনে গাযায় গণহত্যা চালানো হচ্ছে, সেই আমেরিকাকেই অবজ্ঞা করে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স? তবে কি গাযা উপত্যকায় চলা নির্মম হত্যাযজ্ঞ তাদের বিবেক কে নাড়া দিয়েছে? যদি আপনি তাই মনে করেন তাহলে আপনি অলরেডি পশ্চিমা শক্তির বুদ্ধি ভিত্তিক গোলামে পরিণত হয়েছেন। কেন? সেটা নাহয় একটু পরে বলছি, তার আগে আরেকটা ফ্যাক্ট শেয়ার করি।
বাই দ্যা ওয়ে, এই ভিডিওতে যেসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার রেফারেন্স ডেসক্রিপশনে থাকবে, কমেন্টে গালাগালি দেওয়ার আগে রেফারেন্স দেখে নিবেন।
কিছু দিন আগে ট্রাম্প একটা ঘোষণা দিয়েছিল, গাযা খালি করার। সেখানে তারা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে রিয়েল এস্টেট এবং রিসোর্ট তৈরি করে গাযাকে পশ্চিমা শহরের আদলে গড়ে তুলবে। কিন্তু এবার আরব নেতারা সাহসীকতা দেখিয়ে, ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বসে। আরব নেতারা নিজেরা মিলে গাযা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এবং বাজেট প্রকাশ করে। আর আরবদের এই পরিকল্পনায় চারটি ইউরোপীয় দেশ সমর্থন জানায়। দেশগুলো হচ্ছে- জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স।
অবাক হচ্ছেন? এবার একটু টাইমলাইনটা মিলান। এই ঘটনাটি ঘটে ট্রাম্পের আমেরিকা যখন ইউক্রেনকে বিপদে ফেলে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়, তার পরেই। তখনই ইউরোপীয়রা বুঝতে পারে তাদের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার উপর নির্ভর করা হবে সবচেয়ে বড় বোকামি। আমেরিকা নিজের স্বার্থে যে কোনো সময় ইউরোপকে ছুড়ে ফেলে দিবে। আর তাই ইউরোপীয় সাবেক সুপার পাওয়ারগুলো আবারও গ্লোবাল জিওপলিটিক্সে আমেরিকা ও রাশিয়ার সমকক্ষ হয়ে উঠতে চাচ্ছে! এর মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি বেশ এগিয়ে আছে।
এখন আপনি যদি ডট কানেক্ট করতে চান, তাহলে ফ্রান্সের আমেরিকার বিরুদ্ধে গিয়ে আরব নেতাদের সমর্থন দেওয়া এবং ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের কারণ বুঝতে পারবেন। এখন বলতে পারেন, এটা তো ভালোই হবে। কিন্তু আপনি বিশ্বাস করেন আর না করেন ফ্রান্সের স্বীকৃতিতে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না? কেন? চলুন এবার আপনাকে একটু টাইম ট্রাভেল করাই
ক্রুসেডের কথা তো শুনেছেন নিশ্চয়! এ পর্যন্ত যতগুলো ক্রুসেড সংঘটিত হয়েছে, তার বেশিরভাগ ক্রুসেডে নেতৃত্ব দিয়েছিল ফ্রান্স। আর এসব ক্রুসেডে হাজার হাজার নিরিহ মানুষকে হত্যা করেছে, শুধুমাত্র তারা মুসলমান ছিল বলে।
অতীত কেন টেনে আনছি? সালাহউদ্দিন আয়ুবির নিকট পরাজিত হওয়ার পর ক্রুসেডাররা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে নি। তখন একের পর এক পরাজিত হয়ে শেষমেশ ফ্রান্সের সম্রাট নবম লুইস বন্দী হয়েছিলেন মিশরে। যদিও সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, তবে মৃত্যুর আগে তার স্বজতিকে চারটি উপদেশ দিয়ে যান। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, যেভাবেই হোক গাযা থেকে বর্তমান সিরিয়ার অ্যান্টিয়ক পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ইউরোপীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। যেখানকার জনবসতি এবং কালচার পুরোটাই হবে ইউরোপীয়।
সম্রাট লুইসের উপদেশ যে ফরাসিরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল তার প্রমাণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতে না হতেই আরবদের গাদ্দারিতে উসমানীয়দের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সিরিয়া দখল নিয়ে নেয় ফ্রান্স আর ফিলিস্তিনের দখল নেয় ব্রিটেন। এর ফর যা ঘটে সবাই জানেন, ব্রিটিশদের হাত ধরে ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত হয় ইজরায়েল। আসলে ইজরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্রিটেনের প্রক্সি স্টেট হিসেবে। কিন্তু এক পর্যায়ে ব্রিটেন এই প্রক্সি স্টেটের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার উপর ছেড়ে দেয়। আর এখন ফ্রান্স আবারো এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়। ফ্রান্স চায় দাবার যে গুটি টা আমেরিকার হাতে ছেড়ে দিয়েছে, সেই গুটির উপর আবারো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে। আর তাইতো তারা আরবদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে, যতটা ঘনিষ্ঠ আমেরিকার। ফ্রান্স দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের নীতির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে চায়। এর মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো দ্বারা ইজরায়েলের স্বীকৃতিও আদায় করে নিতে চায়।
কোনো ইউরোপীয় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে না। এ অঞ্চলের মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিজেদের চেষ্টা করতে হবে। তারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, এবং শেষ পর্যন্ত এ যুদ্ধে মুসলমানরাই বিজয়ী হবে। পবিত্র ভূমি আবারো মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
Reference -
১. https://www.ittefaq.com.bd/726714
২.https://www.jugantor.com/international/909133
৩. https://www.ittefaq.com.bd/722447